Bengali Poems

September 05, 2011

রাষ্ট্র, তোমার ভিত্তি ভয়ের। তুমি অভয় দেবে কীভাবে?

April 16, 2011

আমি আমার আমিকে এসেছি ফেলে ঢাকার আস্তাকুঁড়ে।

April 28, 2011

‘চাকরি’ শব্দটার ভেতর যে এমন ব্যাপক ভাবে ‘চাকর’ শব্দ ও তার ভাব ঢুকে আছে তা তো আগে খেয়াল করিনি!

June 25, 2011

অনেক বিস্তৃতির পর যে স্থিতি তাহাই স্থির

Date unknown, 2011

অনেকে প্রশ্ন করিয়া থাকেনঃ বিদেশে পড়িবার সার্থকতা কোথায়? সে কি ডিগ্রি অর্জনে, না মোটা মাইনের চাকুরী লাভে? আমি বলিব, বিদেশ গমনের সার্থকতা নিজেকে জানিবার মধ্যে। ভিনদেশে ঘুরিয়া, ভিন-মানুষের সাথে মিশিয়া, ভিন্ন জীবন ও সংস্কৃতির স্বাদ লইয়া, ও সর্বোপরি, একা একা থাকিয়া নিজেকে যতোটা চিনিতে পারা যায় তাহা আর কিছুতে সম্ভব নহে। কূপের মধ্যে যে মণ্ডূক থাকে সে যদি কূপ ছাড়িয়া বাহির না হয় তো জগৎ চিনিবে কেমনে? গাগরীর ভেতর যে চাহিয়া রয় সে মাথা না তুলিলে দিগন্তের অর্থ বুজিবে কি করিয়া ? শুধু ভ্রমনের মাধ্যমে এই আত্মউপলব্ধি আসা কঠিন, তাহার জন্য কিছুদিন বিদেশের মাটিতে থিতু হইয়া থাকা চাই, তবেই দৃষ্টিভঙ্গির এই সম্প্রসারন সম্ভব। আসলে বিদেশ গমনের সবচাইতে বড় পাওয়া হইল এই চিন্তাধারার পরিবর্তন। সে পরিবর্তন যদিবা একবার অর্জন করা যায়, অতঃপর যেইখানেই গিয়া যাহাই করা হউকনা কেন, উদ্দেশ্য সফল হইয়াছে ধরিয়া লওয়া যায়।

Date unknown, 2011

সোনার হরিণ, সোনার মানুষ, সোনার শহর, সোনার কেল্লা, সোনার পাথরবাটি, সোনার দোয়াত-কলম, সোনার বাংলা– সবই মিথ। সেই সব মিথ এর পিছনেই প্রতিনিয়ত ছুটি আমারা!

August 27, 2011

মাঝে মাঝে মুক্তির আনন্দ বন্দীর থেকে মুক্তিদাতার মনে বড় হয়ে ধরা দেয়।

Date unknown, 2011

ভালোবাসার মর্যাদা দিতে না জানলে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।

Date unknown, 2011

হাল্কা বরষায় গাছের তলে পথিক-আশ্রয়প্রার্থী দাড়ালে বৃক্ষ ছায়া দেয়, কিন্তু মুষল-ধারে হলে কোনো মহীরুহুই বাচাতে পারেনা।

Date unknown, 2011

পর কখনো হয় কি আপন?

July 15, 2011

আমি এখনো স্বপ্ন দেখি – এই মোর পরিচয়।

Date unknown, 2012

এসিড বৃষ্টি হলে সবাইকেই পুড়তে হবে ।

অবশেষে স্থির

বুনো হাঁসের পিছে অনেক ছুটেছি আমি,

গেছি উলুবনে মুক্তো ছড়াতে, করেছি অরণ্যে বসে বহুত রোদন।

অবশেষে, ঘরের খাবারে পুষ্ট হয়ে বনের সমস্ত মোষ

তাড়াবার ব্যর্থ খায়েশ সাঙ্গ হলে পরে, বসি সুস্থির।

দেখি : অস্তাচলে রবির আলো ম্লান, বালিঘড়ির দানা ফুরিয়ে আসে।

দ্রুতপায়ে আরো দ্রুত লয়ে হাঁটি, ইষ্টিশনের রেলগাড়ি

চঞ্চল হয়ে ওঠে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পানে।

আমিও ধরবো তারে, যাবো সেই সব নগরে–

অনেক পরিচিতজন আগেই যাত্রী যেথার।

যদিও পথে হলো দেরি; এইবার যাবো যেখানে অনেক

পরিচিতজন বসত গড়িয়া তোলে।

সেথা হবো সুস্থির।

জুলাই, ২০১১

রাজনৈতিক

শলা-ইন্দুর, জেঠি, তেলাকাটা, মাকড়, ভীমরুল—

দেহে, মনে, প্রাণে, ঘরে, দেশে;

ওরা ফিরে আসে পুনঃপুনঃ।

হায়েনার হাসি শাসিয়ে যায় :

এক মাঘে শীত যায়নি কস্মিনকালেও।

সংঘাত-সংঘাত খেলা সর্বনাশ করে,

সমঝোতা-সমঝোতা অভিনয় হাস্যরস আনে।

রাজর্ষি-রাজাকারে যুদ্ধ, আমজনতা কি

পক্ষ নেবে না স্থিতি ও সত্যের?

তবে দোষ কিবা ম্যাকিয়াভেল্লিতে?

২৫/১০/১৩

কালোজাদুকর

সত্ত্বায় মিশে যাই অন্য কারো,

রাত্রি গভীর হলে—অগোচরে।

তুমিও তো অন্য কেউ হতে পারো,

আঁধারের পর্দায় সূর্য ঢেকে গেলে পরে।
তুমি আর আমি বাস করি একই দালানে;

অন্তত দিনের অংশ দুই-তৃতীয়।

গোধূলির ধুলায় ঘরেও ফিরি একই চালানে :

স্নানাহার শেষে শুরু করি রূপ দ্বিতীয়।

তোমার ব্যস্ততা কেমন—সে জানিনা;

কী ভালোবাসো : পাঠে বা রান্নায়?

ঋতুর চক্র দেহের—তাও অজানা;

কী অপ্রাপ্তি ঝরে তোমার কান্নায়?

বোরা-বোরা দ্বীপ যেন ঐ স্বচ্ছ দু’চোখ—

সাথীর সোহাগে উতলা হয় নিশ্চয়;

তোমায় বিবস্ত্রা দেখাতেই তার বেশি ঝোঁক :

তোমার কামাতুর হাসি তারে দেয় প্রশ্রয়।

সেই ক্ষণে তুমি আমারে জানো না;

বোঝ না : আমিও করে টেলিপ্যাথি

মিশে আছি মিলনে; একটুও ভাবো না—

আজাজিল যে, আমি তার জ্ঞাতী।

তুমি তো পেরেছো রুখতে, হে রাতের সারথী,

তোমার পূর্ণ-চন্দ্র-যামিনীর কুৎসিত বিবর্তণ।

অলৌকিক হওনি তুমি বিষ্ণুকে করে প্রণতী;

শুধুই মানবী আর অপ্সরীর মাঝে তোমার আবর্তন।

পরদিন হয় ভোর, উঠলে তিমির যবনিকা—

আবার সজ্জা, সস্তা নাস্তা, যাত্রা; অন্যান্য ধুয়া-অন্তরা।

তুমি আমার সম্মুখে আবার, শুরু দিনের উপক্রমণিকা,

সাবধান! নিশ্বাসে-ছলে বিষবাষ্প আমার, হে বিলাসী স্বয়ম্ভরা।

১৪/০৯/১২