Writings in Bengali

Sept. 06, 2011

খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
‘মনমোহন’ এলো দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে
খাজনা দেবো কিসে?

July 22, 2011

আশ্চর্য ! মানুষ এখন আর আম্বুল্যান্সকেও আগে যেতে দেয় না। আমাদের ইন্দ্রিয় আর অনুভূতিগুলো এমনই ভোঁতা হয়ে গেছে !

July 20, 2012

যারা জীবনে এক বারের জন্যও হলুদ পাঞ্জাবি গা’য়ে দিয়ে মাঝরাতে খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটতে চেয়েছে, যারা একবারের জন্যও সাইকোলজি’র অধ্যাপক হয়ে একাকী অলস জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখেছে, অথবা পদার্থবিদ্যা পড়তে পড়তে শুভ্র এর মত চোখে মোটা কাঁচের চশমা লাগাতে চেয়েছে তারা জানে, হুমায়ূন আহমেদ কেবলমাত্র অমাবশ্যার অন্ধকার থেকে পূর্ণিমার আলোতে চলে গেছেন।

February 08, 2013

শাহবাগ গণজাগরণের শেষ পরিণতি কী হবে বা এই আন্দোলনের ফসল কারা ঘরে তুলবে তা বলতে পারি’নে। তবে গত দু’ চার দিনে ক’একটি মহাপরিবর্তন ঘটে গেছে বলে বোধ হচ্ছে। যেমন, ‘জয় বাংলা’ এই স্লোগানটি তার ‘৭১ এর নির্দলীয়-সার্বজনীনতা পুনরায় ফিরে পেয়েছে। যে স্লোগানটিকে আওয়ামী লীগ

তার দলীয় পরিচয়ে কুক্ষীগত করে রেখেছিলো গত ৪১ বছর, তা আজ আবার আম-জনতা নিজেদের মুখের ভাষায় ফিরে পেলো। ‘জয় বাংলা’ আজ এক মুক্ত-জাতীয় স্লোগান, তা এখন থেকে কেবল আর আওয়ামী লীগ-কে নির্দেশ করবেনা, তা হবে সমস্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের মুক্তমনের মানুষের ধ্বনি, তার দলীয় পরিচয় যাই হোক।

February 16, 2013

শুধুমাত্র নাস্তিক বলে যদি এই দেশে মানুষকে খুন হতে হয় তবে পাকিস্তান হতে আমাদের আর বেশি বাকি নেই। নাস্তিকের গলায় ছুরি যে চালায় সে কেমন আস্তিক?

February 26, 2013

বাঙলার ইতিহাসে বেঈমান-দুশমনের কদাচ আভাব হয় নাই। বখতিয়ার খলজী যখন লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদিয়া আক্রমণ করিয়াছিলেন, তখন, শোনা যায়, কে বা কাহারা রাজবাড়ির সদর দরজা খুলিয়া দিয়াছিলো। ইহা তাহাদের বুঝিবার অক্ষমতা না তাহাদের পকেটে কিছু গিয়াছিলো, তাহা আজ এত বছর পর আর সঠিক বলিতে পারি না। সুলতানী আমলেও ইতিহাস ঐরূপ চলিতা লাগিলো—বিশ্বাসঘাতকতা আর হত্যার সে এক ন্যাক্কারজনক অধ্যায়। ইহার পরে আসিলো ১৭৫৭। পলাশীর আম্রকাননেও মীর জাফরের সাঙ্গ-পাঙ্গ আর চ্যালা-চামুন্ডের কমতি হয় নাই। ঠিক তাহার একশত বতসর পরেই শুরু হইলো ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম। কিন্তু তথায়ও দেখিতে পাই, একশ্রেণীর দেশীয় বেনীয়া-মুতসুদ্দি— হিদুঁ-মুছলমান উভয়ই —ইংরাজের সহিত হাত মিলাইয়া বিপ্লবকে পিছন হইতে ছুরি মারিলো। ইহাদের মধ্যে স্যার সৈয়দ আহমদ সহ অনেক রথী-মহারথী রহিয়াছেন। এর দশ-কম-একশত বতসর পর পুনরায় ভারতীয় উপমহাদেশ জুড়িয়া শুরু হইলো আর এক ডামাডোল—দেশভাগ। এবারো কুমতিধারী লোক অনেক মিলিলো। যাহারা ১৯০৫-১৯১১ সনে বাঙলাকে দুই প্রদেশে ভাগ করা হইয়াছে বলিয়া ক্ষোভে অন্ন-জল স্পর্শ করা রদ করিয়াছিলেন, তাহাদেরই একটি অংশ মারোয়াড়ীদিগের টাকায় আর হিন্দু মহাসভার প্ররোচনায় একেবারে স্থায়ী রূপে বঙ্গমাতার অঙ্গহানী করিবার নিমিত্তে আদা-জল খাইয়া লাগিলেন। উহার পর ’৫২ তে নাজিমুদ্দিন-নূরুল আমিনের গাদ্দারী, ’৬০ এর দশকে মোনেম খানের মোনাফেকি, আর ’৭১ এ জামায়াত-এ-এসলামি-মুসলিম লীগে-নেজাম-এ-এসলামের দেশদ্রোহীতা স্বচক্ষে দেখিয়াছেন এরূপ জীবিত বান্দা তো অদ্যবধি আকছার মিলিবে। ’৭৪-’৭৫-’৭৯-’৮২-’৮৬-’৯৬-’২০০১-’০৭ ইত্যাদি বতসরের কথা নাহয় নাই পাড়িলাম; পাঁক ঘাটিয়া দুর্গন্ধ বাড়াইয়া কি লাভ? এইবারো শাহবাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইবার লোকের কোনো অভাব পড়িবে না। ইহারা আন্দোলনকে ভেতর হইতে অন্তর্ঘাত করিতে চাহিবে, বাহির হইতে চাপ প্রয়োগ করিবে, চলিবে প্রকাশ্যে-গোপনে আতাঁত আর সংগ্রামের ফসল ছিনতাই করিবার অপচেষ্টা। ইহা নিয়া রাজনীতি, দর কষাকষি, হিসাব-নিকাশ, আর অপপ্রচারের কোনো লাগাম দেখিতেছিনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই ইহার ভেতরই ধর্মের সেই পুরাতন আফিমে বুঁদ হইয়া, বা ধর্ম-ব্যবসায়ীর ঘুলঘুলাইয়াতে পথ হারাইয়া, বা কম্যুনিস্ট কিংবা আওয়ামী লীগের প্রতি আদি বিদ্বেষ বশত, অথবা বিএনপি’র অন্ধ আনুগত্য-হেতু এই মহত জাগরণকে পিঠ দেখাইয়াছেন দেখিতে পাইতেছি। তথাপি, মোদ্দা কথা এই যে, এই প্রায়-বিপ্লবকে যদিবা সঠিক হস্তে হাল-মাস্তুল ধরিয়া রাখিয়া যুদ্ধাপোরাধীদের ন্যায় বিচারের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির জীবনে এক নবচেতনার উন্মেষ ঘটাইবার কার্যে না লাগানো যায়, তাহা হইলে এইবারো পূর্বের বহুবারের মতনই আন্দোলনের লাভের গুড় ডেয়ো-পিঁপড়ায় খাইয়া যাইতে পারে। তারুণ্য, পকেটমারদীগের ব্যাপারে তাই সাবধান।

March 01, 2013

অনেকেই এই কুতর্ক করিতেছেন যে, পুলিশ পাহারা লইয়া শাহবাগে যে আন্দোলন চলিতেছে তাহা আবার একটা আন্দোলন হইলো? আমাদিগোকে করিতে দিলে আমরাও উহার দশগুণন লোক জমায়েত করিতাম ইত্যাদি। তাহাদের প্রতি বলিবো, ’৭৫ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ গোটা কয়েক যুগ রাজাকারদিগো কি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায় নাই? রাষ্ট্রীয় মদদে ও বিভিন্ন দলের ঘাড়ে সাওয়ার হইয়া তাহারা এই দেশে কী না করিয়াছে? প্রধানমন্ত্রীত্ব পাইয়াছে, স্পীকার হইয়াছে, বঙ্গভবনে পর্যন্ত ধুকিয়াছে। আল-বদর কমান্ডারদিগের গাড়িতে উড়িয়াছে জাতীয় পতাকা। তাহা হইলে আজ রাজাকার-বিরোধী আন্দোলনকারীরা নিরাপত্তা পাইলে এত লাগে কেনো? যখন এই আন্দোলনকারীরা রামদা’র কোপে ফালি-ফালি হইবার অঘোষিত ফতোয়া মাথায় লইয়া ঘুরিতেছেন, যখন যে কোনো মূহুর্তে সন্ত্রাসীর বোমায় ছিন্ন-ভিন্ন হইয়া যাইতে পারে শত-শত লোক, তখন যদি তাহারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা না পায় তাহা হইলে আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তি বলিয়া দাবি করিয়া থাকে এমন একটি জোটকে জনগণ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরীষ্ঠতা দিয়া মহান জাতীয় সংসদে কেনো প্রেরণ করিয়াছে? আর এক দল বলিতেছে, দেশে কী একটা গন্ডগোল বাধাইয়া দিলো, পথে-ঘাটে যানজট, রাস্তায় নামিতে পারিতেছিনা বিবিধ। ইহারা বোধ করি ’৭১ কেও গন্ডগোলই বলিবান কেননা তখনো দেশে বাস্তবিক একটা গোলযোগই বাধিয়াছিলো আর রাস্তা-ঘাটে চলাচলও বিপদজনক হইয়াছিলো। কিন্তু কাহারা এই বিপদের আশু কারণ ও দুশমন, আর তাহারা কাহাদের বংশধর তাহা ভাবিয়া ইহারা আর মুসিবত বাড়াইতে চাহেন না। আর সর্বশেষ একদল রহিয়াছেন যাহারা বলেন, দেশটাকে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া ছাড়িলো, ছিলেম তো বেশ মিলিয়া-মিশিয়া…তাহাদিগকে শুধু এইটুকুই বলিবো, পানির মধ্যে কোনো দানাদার পদার্থ কি বিষ গুলাইয়া দিলে তাহা মিশিয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এক হইয়া যায় না। এখন সময় আসিয়াছে ইতিহাসের সেই অমিয়জল বিষমুক্ত করিয়া পান করিবার। ইতিহাসের পাতায় পাতায় দুইটি দল রহিয়াছে, একটি সত্যের দল আর একটি মিথ্যার। তাহাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য। কোনো নতুন মানবমুক্তির ধর্ম কি পুরাতন বাতিল ধর্মকে উচ্ছেদ বা কমপক্ষে প্রভুত পরিমাণে দুর্বল না করিয়া ছাড়িয়াছে? কোনো বিপ্লব কি প্রতি-বিপ্লবীদের স্বস্তিতে রাখিয়া নূতন সমাজ বিনির্মাণ করিতে পারিয়াছে? তাহা হইলে আমাদের আর এত দ্বিধা কেনো? সত্যের জয় যে সকল সময়ে তড়িত গতিতে হইয়াছে তাহাও নহে। কিন্তু শেষ হাসি ঠিকই হাসিয়াছে ন্যায়।March 5, 2013অপ্রীতিকর হইলেও আজ শুভ্র বর্ণকে শুভ্র আর কৃষ্ণ বর্ণকে কৃষ্ণই ডাকিবো। চূড়ান্তবিচারে, ড. সলিমুল্লাহ খান সাহেবের কথাই প্রমাণিত হইলো। শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম দিকে তিনি লিখিয়াছিলেন, যদি চলমান জামায়াত-শিবির-যুদ্ধাপরাধী বিরোধী আন্দোলনে গ্রামের কৃষক আর শহর-মফস্বলের শ্রমিক শ্রেণিকে যুক্ত করা সম্ভব হয়, তাহা হইলে এই সব দেশ-বিরোধী, সমাজ-বিরোধীদিগ পালাইতে পথ পাইবেনা। তাহা না হইলে আন্দোলনের শেষ পরিণতি কী হইবে বলা মুশকিল। আজ দেখিতে পাইতেছি, প্রায় সেই কার্যই চক্ষুর সম্মুখে চলিতেছে, শুধু বিপরীত দিক হইতে। জামায়াত-এ-এসলামি অত্যন্ত সফলতার সহিত সেই কার্যটি করিয়াছে। তাহারা সর্বস্থানে না হইলেও, স্থানে-স্থানে, গ্রামের কৃষক আর মফস্বলের নিম্ন-মধ্যবিত্ত খাটিয়া খাওয়া মানুষের ভেতরে তাহাদের একটি প্রভাব বলয় গড়িয়া তুলিয়াছে। তাহা চাকুরি-ব্যবসা-কাজ ইত্যাকার সুযোগ-সুবিধা দিয়াই হোক, আর ধর্মের ভয়, বিবিধ প্রপাগান্ডা, বা সাঈদি’র ক্যাসেট কিংবা চন্দ্রপৃষ্ঠে তাহার বদন-মোবারক প্রদর্শন করাইয়াই হোক। দূরদর্শনে দেখিতেছি আর খবরের কাগজে পড়িতেছি, উত্তর বঙ্গের দুইটি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ, আর খুলনা বিভাগের দক্ষিণ অংশের জেলাগুলিতে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, চাষা-মজুর-ছেলে-বুড়ো অনেকেই জামায়াতের বিষের বাঁশিতে মন্ত্রমুগ্ধ হইয়া পথভ্রষ্ট পতঙ্গের মতন হুতাশনের বুকে অকাতরে ঝাপাইয়া বৃথাই জীবনত্যাগ করিতেছেন। কিন্তু এই দুর্দশা কি রূপে আসিলো, কি করিয়া দেশের একটি বৃহত অংশে বহু স্বাধের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তবুদ্ধির এই বিপর্যয় ঘটিলো? সে কি শুধুই ধর্মের বড়ি খাওয়াইয়া? তাহা কি শুধুই চাষী কল্যাণ সমিতির কেরামতি? ইহাতে কি আর কাহারো অবদান নাই? সবার প্রথমে জামায়াতের এই সাফল্যের ভাগীদার করিতে চাই মহাজোট সরকারকে, তাহা তাহারা চাহেন আর নাই চাহেন। দেখা যাইতেছে, তাহাদের কোনই হোমওয়ার্ক নাই। গত চার বছর ধরিয়া তাহারা তবে কী কাজটি করিয়াছেন? তাহারে কি গ্রামে-গঞ্জে গিয়া-গিয়া সাধারণ মানুষকে বুঝাইয়াছেন, বেয়াল্লিশ বছর পার হইয়া গেলেও কেনো ’৭১ এর পাপীদের বিচার করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য জরুরী? তাহারা কি মফস্বল-টাউনের লোকদিগের সাথে কথা বলিয়া তাহারা বিচারের ব্যাপারে কি মনে করেন বা কি উপদেশ দেন তাহা জানিতে চাহিয়াছেন? মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আর রাজাকার-আল-বদর-আল-শামস বাহিনীর কৃত অপরাধের কথা সবিস্তারে আপামর জনসাধারণকে পুনরায় স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন? বিশেষ করিয়া যে সকল বড় বড় গাদ্দারদিগকে আটক করিয়া বিচার করা হইতেছে, তাহাদের ভূমিকা ও আসল রূপ কি আদ্বিজচন্ডালের সম্মুখে নূতন করিয়া উদ্ঘাটন করিতে কোনো প্রয়াস লইয়াছেন? জানি, উত্তরে বিভীষিকাময় নীরবতা ব্যতীত আর কিছুই মিলিবে না। আন্তর্জাতিক ভাবে যেমন মিডিয়া-প্রচারণায় আর লবিং-এ আওয়ামী-সরকার জামায়াতের নিকট পরাজিত হইয়াছেন, ঠিক তেমনই পরাজিত হইয়াছেন দেশের মানুষের কর্ণে নিজেদের কথা ও যুক্তি পৌছাইয়া দিতে। ঢাকা শহরই কেবল দেশ নহে, তাহার বাহিরেও হাজার-হাজার বর্গমাইল রহিয়াছে। তাহার পর আসিতেছে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক দলসমূহের ভেতর আলোচনা, বোঝা-পড়া, আর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জামায়াতকে কোণঠাসা করিবার প্রশ্নটি। এসলাম-পন্থী দলগুলির কথা না হয় বাদই দিলাম, বিএনপি ও তাহার সমমনা গণতান্ত্রিক দলসমূহের সহিত কি যুদ্ধাপরাধের বিচারের মত এত বড় একটি ইস্যু নিয়া বিন্দুমাত্র কোন আলোচনা চলিয়াছে? আমরা পছন্দ করি আর নাই করি, তাহারা যে দেশের প্রায় ৩৫-৪০ ভাগ লোকের প্রতিনিধিত্ব করেন, তাহা তো অস্বীকার করিবার কোনো উপায় নাই। তাহার বদলের কি দেখিলাম? সরকার তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুকে কেন্দ্র করিয়া রাজনীতির যুদ্ধক্ষেত্র দ্বিতীয় ফ্রন্টটি খুলিলেন। য়ুরোপের সমস্ত বৃহত বৃহত শক্তির সহিত সমর বাঁধাইয়া নেপোলিয়নের ন্যায় মহান সমর আর রাষ্ট্রনায়ক শেষ পর্যন্ত পরাজিত হইয়াছিলেন। পূর্ব্ব আর পশ্চিমে রণাঙ্গন খুলিয়া ইতিহাসের নৃশংসতম ন্যাতসি বাহিনী অবধি হারিয়া গিয়াছিলো। সেই একই ভুল করিলো আওয়ামী লীগ। তাহারা গাছেরটাও খাইতে চাহিলেন, আবার তলারটিও কুড়াইতে গেলেন। ফলে যুদ্ধাপরাধীদিগের বিচারের মতন ইতিহাসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কোন জাতীয় ঐক্য হইলো না, জাতির আকাশ হইতে দুর্যোগের ঘনঘটাও সরিলো না। লীগ সরকারের উচিত হয়ে নাই এই বিচার লইয়া রাজনীতি করা, উচিত হয় নাই ইহা লইয়া দর কষাকষি করিয়া ভোটের সমীকরণ মিলাইতে যাওয়া, উচিত হয় নাই ইহাকে নির্বাচন জিতিবার ট্রামকার্ড হিসাবে ব্যবহার করিতে চাওয়া। তাহাতে হিতে বিপরীত হইয়াছে, আম-ছালা উভয়ই গিয়াছে; লাঠি ইতমধ্যে ভাঙ্গিয়া গিয়াছে, কিন্তু দেখিতে পাইতেছি, কালনাগিনী অদ্যবধি ফনা বিস্তার করিয়া উদ্যত রহিয়াছে। মহাকালের ভাগ্যদেবী আমাদিগকে একটি সুবর্ণ হরিণ দান করিয়াছিলেন, তাহা আমারা বোধকরি লোভ-হিংসা-মোহ ইত্যাদি রিপুর যুপকাষ্ঠে বলি দিয়া ফেলিতেছি। এখনো সময় আছে কি নাই তাহা আমার ন্যায় অর্বাচীন কহিতে পারিবে না, তাহা নির্ধারন করিয়া রাহুমুক্তির আশু পথ-প্রদর্শন করিতে হইবে সুধী ও সাধু জনকেই। পরিশেষে শুধু এইটুকুনই বলিবো, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে, কৃষক-শ্রমিকের মাঝে কার্যের ক্ষেত্রে বামপন্থি-প্রগতিশীল শক্তির কি দশা বা ভূমিকা বা বর্তমান অবস্থা তাহা শহরের বালাখানায় বসিয়া আমার পক্ষে মন্তব্য করা সমীচিন হইবে না, তাহা যেন একটু কষ্ট করিয়া আমার সার্বক্ষণিকের পেশাদার মার্ক্সবাদী বন্ধুগণ নিজেদের কাছে প্রশ্ন রাখিয়াই জানিয়া লন। শুদ্ধ বলিবো, আপনারাই আমাদিগের শেষ ভরসা, আশাহত করিবেনা।

March 29, 2013

সাংবাদিক ভ্রাতৃবৃন্দ মির্জা ফখরুলের নিকট প্রশ্ন রাখিয়াছিলেনঃ এইচ.এস.সি. পরীক্ষার ওয়াক্তে হরতাল না বুলাইলেই কি নহে? তিঁনি জানাইলেন, “ইহা জাতীয় স্বার্থের মামলা”। বটে! ‘জাতীয় স্বার্থ’ কি বস্তু? ‘জাতীয়’ কে আর তাহাদের ‘স্বার্থ’-ই বা কি মাল? লালমণিরহাটে হরতালের সময় বিদ্যালয় চালু রাখিবার ‘অপরাধে’ তথায় হামলা চালাইয়াছে হরতালকারীরা। এইটুকুন বুঝিতেছি, তালেব-এ-এলেমদিগ রাজনীতীবিদদিগের নজরে ‘জাতীয়’ এর মধ্যেও পড়েন না আর তাহাদের নিরাপত্তাও কাহারো ‘স্বার্থ’ নহে। ঐদিকে ব্রহ্মণবাড়িয়াতে এত বৃহত একখানি তুফান হইয়া গেলো। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় মজলিসের কোনো সভ্য দূর্যোগস্থলে তসরিফ নিয়া গিয়াছিলেন কিনা জানিনা। তথাপি, গেলেও আমার নজরে আসে নাই। দেখা যাইতেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াও ‘জাতীয় স্বার্থের’ বাহিরে।

March 30, 2013

ঈসায়ী এই ২০১৩ সনে বঙ্গের স্কন্ধে য়ুরোপীয় মধ্যযুগের ভূত যেন পুনরায় চাপিয়া বসিয়াছে। শুরু হইয়াছে নূতন কোনো ‘ইনকুইজিসন’। কে কোন মান্ধাতার আমলে কী লিখিয়াছিলো তাহা গোর খুঁড়িয়া লাশ তুলিয়া ব্যবচ্ছেদ করিবার মতন বাহির করা হইতেছে। সুরতহাল অন্তরে প্রতিবেদন দাখিল করা হইতেছে ‘আমারদ্বেষ’ নামক হলুদ পত্রিকায়। বিচারালয়ের ধর্মাবতাররূপে দেখা যাইতেছে ফরহাদ মযহারকে, আর বাদী পক্ষের প্রধান কৌসুলী মাহ্মুদুর রহমান। জুরিবৃন্দের সারিতে জামায়াত ও আঠারদলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, ভূঁইফোড় হেফাজতে এসলাম, আর লিঙ্গ-সমতা বিধানের খাতিরে বেগম খালেদা জিয়া। এইবারে দেশে ধর্মরক্ষা না হইয়া আর যায় না!

April 14, 2013

বাংলা মাতার হালত ভালো নহে। তাঁহার পাক অঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত, খণ্ডিত। তাহার আওলাদগণ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-মযহাব-জবান-রাজনীতি-আদর্শ নির্বিশেষে বহুধাবিভক্ত, ভ্রাতৃঘাতী জঙ্গে লিপ্ত। ইয়াদ আসিতেছে ‘৪৭ এর দেশভাগ, ‘৫০ ও ‘৬৪ এর দাঙ্গা, ১৯৭১ এর গণহত্যা, ‘৯৩, ২০০১, ‘১৩ এর সংখ্যালঘু নির্যাতন। কত আপনজন দেশ ছাড়িয়া চিরতরে পর হইয়া গেল, কতজন খুন হইল, দুই বাংলার কত জনপদ কারবালা হইল। জাতিকে, দীনকে, ভাষাকে, তমদ্দুনকে রাজনৈতিক-অর্থনীতির হীন স্বার্থে মুখোমুখি দাঁড় করানো হইল কতবার, তবুও আওয়াম কিছুই শিখিলো না। পুনরায় দেখিতে হইতেছে খাণ্ডব দাহন। এই হালে কোন মুখে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাইবো? কি করিয়া মেলার উৎসবে সামিল হইবো? শুদ্ধ এইটুকুনই দোয়া করিতে পারি, যেন আগত সালটি বিগত সাল হইতে উত্তম হয়। আমেন। জয় বাংলা, জয় জনতা।

এপ্রিল ২৪, ২০১৩ (April 24, 2013)

রাশিয়ার সহিত চুক্তি করিয়া ১ বিলিয়ন ডলারের হাতিয়ার খরিদ হইল, যাহা হয়ত কস্মিনকালেও আমাদিগের কাজে আসিবে না। ঐদিকে আমাদিগের দমকল ও উদ্ধারকারী বাহিনীর না রহিয়াছে সার্চলাইট, না রহিয়াছে ড্রীল মেশিন, না ক্রেন, না আর কিছু। তাহারা খালি হাতে ভবনের কংক্রীটের কড়ি-বর্গা ধরিয়া অহেতুক টানাটানি করিতেছেন। অথচ ইহাদের সেবা আমাদিগের প্রতিদিনের প্রয়োজন। তাহা হইলে ইহাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা কোথায়? ইহাদের আধুনিক সরঞ্জাম কোথায়? নাকি ইহাদেরকে খুশি করিবার প্রয়োজন ক্ষমতাশী্নদের নিকট নাই কারণ ইহাদের হাতে তো গদি ধরিয়া টান মারিবার রশি নাই। তাই আরও বেশি করিয়া জঙ্গী ট্যাংক খরিদ করুন। একদিন জনগণ ট্যাংকে নুন মাখাইয়া খাইবেন!

মে ৫, ২০১৩ (May 05, 2013)

দুধ-কলা দিয়া কালসাপ পুষছেন, হেই সাপ যখন বড় হইলো তখন তাদের নিজেদের কইরা-করমাইয়া খাওনের কোন পথ রাখেন নাই, আবার বিষদাঁতও ভাঙ্গেন নাই। এখন গেল গেল বইলা রব তুলেন ক্যালা? ঢাহা শহর পুড়তাছে পুড়ুক। আমরা দেখি বাঁশিতে নিরোর লাহান সুর তুলতে পারি কি না।

মে ৭, ২০১৩ (May 07, 2013)

অনেকেই কইতাছে ৫ মে শাপলা চত্বরের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান কেন লাইভ দেখানো হইল না? ভাই, এইডা একটা হাই-রিস্ক, হাই-সেন্সেটিভ জাতীয় নিরাপত্তার লগে সংশ্লীষ্ট আভিযান আছিল। এইডা রিয়েল মাদ্রিদ আর বার্সালোনার ফুটবল খেলা আছিল না যে ফ্ল্যাড লাইটের আলো জ্বাইলা সরাসরি নানান দিক থেইকা প্রচার করবে আর আপনে ঘরে বইয়া কুক-পেপসি খাইতে খাইতে তা উপভোগ করবেন!

May 14, 2013

আ.লীগ কইছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা না হইলে আর কেউ হইতে পারবে না। এইটা মাইনা লইয়া সংলাপে আসতে হইবো। এইটা কেমন কথা? এইটা তো পুরাই ‘তাল গাছটা আমার, এইবার সালিশ বসাও’ অবস্থা। বিএনপিরে তো কোন স্পেসই দেওয়া হইতেছে না। এমন চলতে থাকলে তো ফ্যাসিবাদ কথাটার জনপ্রিয়তা আরও বাড়বো। সেইটা কি আ লীগের জন্য ভালো হইবো? ভুংচুং বাদ দেন, লাইনে আসেন। দুই নেত্রীরে বলি, তত্ত্বাবধায়ক দেন আর জামায়াত এর সঙ্গ ছাইড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মাইনা লন সময় থাকতে। সাধু সাবধান!

May 19, 2013

ঢাকা কোন গ্যেটো শহর নয় যে এখানকার জন্য এক আইন আর সারা দেশের জন্য অন্য আইন হবে। ঢাকা একটি মুক্ত-স্বাধীন দেশের রাজধানী, অদ্যবধি। আজ সরকারী অবিমৃষ্যকারীতায় আমার সাংবিধানিক কিছু আধিকার ক্ষুণ্ন হল। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। মুখে যেহেতু অন্তত গণতন্ত্রের নাম করেন, তাই শাসকশ্রেণীর লোক-দেখানো গণতন্ত্রের খাতিরে হলেও আলোচনায় বসুন। জনগণ এখন আর আপনাদের কাছ থেকে গণতন্ত্র আশা করে না, আপনারা নিদেনপক্ষে নিজেদের লুটপাটের একটা আপষমূলক ব্যবস্থায় আসুন। জনগণ নিজেরটা নিজেই করে খেতে পারবে, তাদেরকে দয়া করে আর পিছন থেকে ল্যাঙ মারবেন না। ভিক্ষা চাই না মা, তোর কুকুর সামলা।

May 21, 2013

–মখা আলমগীর অর্থনীতিতে পিএইচডি প্রাপ্ত। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ছিলেন। ছিলেন শিল্প ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশের একটি পাঁচসালা পরিকল্পনা তার হাতেই নাকি করা।

–হের লাইগাই তো কই, হালার দ্যাশের অর্থনীতির এমুন কেরোসিন অবস্থা ক্যালা?

May 20, 2013

থমথমে ভাব। চারিদিকে কেমন যেন চাপা অস্বস্তির বাতাস। হেফাজত চুপ, জামাত চুপ, বিএনপি চুপ, আ. লীগ তো পারলে পুরা দেশটারেই চুপ করাইয়া রাখে। চারিদিকে যেন কেমন গুমোট। বাংলার আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা। কে দেবে আশা? কে দেবে ভরসা? কে শোনাবে সান্তনার বাণী, গোলাম হোসেন?

May 26, 2013

দেশনেত্রী দেশের কল্যাণের কথা চিন্তা কইরা হরতাল ডাকছেন। আর জননেত্রী জনতার সুবিধার কথা চিন্তা কইরা হরতালের দিনেও তার আপিসে আসার টাইমে আপিসের ত্রি-সীমানা দিয়াও কুন রিক্সা যাইতে দেন না। লোক-জনরে রাস্তায় নামাইয়া দেয়া হয়, নাইলে দুনিয়া ঘুইরা যাও। রোদ-বৃষ্টি মাথায় কইরা হাটওন ভালো। দেইখা-শুইনা মনে হইলো ভূপেন হাজারিকার গান–“বিস্তৃর্ণ দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষের হাহাকার শুনেও, ও গঙ্গা তুমি, ও গঙ্গা বইছো কেন?”………

June 13, 2013

শুধু ‘চ’ আর ‘দ’–এই বর্ণ দুটো থাকলেই কোন শব্দ অশ্লীল হয়ে যায় না। আমাদের সবার প্রিয় ‘চাঁদ’ শব্দ তো শুধু এই দুটো বর্ণ দিয়েই গঠিত। তবে ‘চুদুরবুদুর’ আশালীন না হলেও ‘সংসদীয়’ শব্দ কিনা সেটা অবশ্য অভিজ্ঞ ‘পার্লামেন্টারিয়ান’-রা ভালো বলতে পারবেন।

June 16, 2013

বেগম জিয়া তাইলে ঠিকই বুজছিলেন। “মঞ্চ-ফঞ্চ বানিয়ে কোন লাভ নাই”; তারচেয়ে একটা মাদ্রাসা বানান। নির্বাচনের ময়দান ও হাশরের ময়দান–দোনো ময়দানেই কামে লাগবো। তাঁর এই রাজনৈতিক দূরদর্শিতার জন্য তাঁরে সাধুবাদ জানাইলাম।

June 16, 2013

পুরাই প্যাঁচগী লাইগা গেছে গা…চীনপন্থী বামরা এই সুযোগে মস্কোপন্থী সিপিবি-ইউনিয়নরে আওয়ামী দালাল কইয়া ব্যাপক ঝাড়তাছে, মস্কোপন্থীরা আবার একহাত লইতাছে আওয়ামী লীগ আর ইমরান সরকাররে চেতনা ব্যবসায়ী কইয়া, আওয়ামীরা গুষ্টি কিলাইতাছে চীন-মস্কো সবার। মাঝখান দিয়া জামায়াত-শিবির দাঁত কেলাইয়া হাসতাছে আর বিএনপি তাগো …… চুষতাছে। ও, লেজেহুমু’র কথা তো ভুইলাই গেছিলাম। এরশাদ এখন শফির লগে ঘুমায়। এরশাদরে দেখলে শফির লুল পড়ে……

July 10, 2013

যারা কোটা কমানোর আন্দোলন করছেন তারা বিশেষভাবে খেয়াল রেখেন যেন শিবিরের হাতে নেতৃত্ব কোনো ভাবেই না যায়। তাহলে কিন্তু আম-ছালা সবই হারাবেন। সেক্ষেত্রে এই শাহবাগের পরিণতি আগের শাহবাগের থেকেও করুণ হতে পারে।

July 10, 2013

যদিও একবার প্রস্তুতি নেয়া সত্ত্বেও বিসিএস পরীক্ষা আমার কখনো দেয়া হয়ে ওঠে নি, তবুও শাহবাগে কোটা নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে পূর্ণ সমর্থন জানাই। তবে সব কোটা তো আর তুলে দেয়া সম্ভব নয়, বিশেষ করে নারী ও উপজাতি কোটা, কিন্তু অবশ্যই পুরো ব্যাপারটাকে একটা গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ ভাগ থেকে ৫ বা ১০ ভাগ এ নামিয়ে আনতে হবে। জেলা কোটাও কমানো যেতে পারে। কোটা পূর্ণ না হলে ফাঁকা পোস্টগুলো মেধা তালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। তবে সেই সাথে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান) জন্য ৫ ভাগ কোটা বরাদ্দ করারও দাবি জানাই। যদিও আমার শেষ দাবিতে অনেকেই হয়ত রুষ্ঠ হবেন। আর সরকারকেও লক্ষ লক্ষ বেকার বা সরকারি চাকুরি করা যাদের স্বপ্ন তাদের দুঃখ বুঝতে হবে। তবে কতটুকু বুঝবে তাতে আমার সন্দেহ আছে। সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের সন্তানেরা নিশ্চয় বিসিএস পরীক্ষা দেয় না। তারা ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা বা আস্ট্রেলিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে।

July 11, 2013

নারী কোটা কারা কেন বাদ দিতে বলতে পারে সেই প্রশ্ন করলেই তো সব পানির মত পরিষ্কার হয়ে যায়।  বিখ্যাত শিবির নেতা খোমেনি ইহসানের স্ট্যাটাস পড়ুন তার প্রফাইলে। কাল রাতে যা ভয় পেয়েছিলাম তাই হলো। পুরাই শিবিরের দখলে গেলো। এই আন্দোলনের ভবিষ্যত অন্ধকার। খোমেনি যে আন্দোলনের সাথে আছে তা বিপথে যেতে বাধ্য।

July 12, 2013

প্রথম আলো কেমন একপেশে নিউজ করা শুরু করছে তার একটা নমুনা আজ দেখলাম। সবাই-ই দেখছে। প্রথম পাতাতেই একদল ছেলে আর একটা ছেলেকে মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছে, তার ছবি। অতি ঘৃণ্য কাজ, সন্দেহ নাই। এই কাজের তীব্র নিন্দা জানাইতেছি। ক্যাপশনে বলা হইছে, “অভিযোগ আছে তারা ছাত্রলীগ’। বলছে, ‘কোটা-বিরোধী সাধারণ আন্দোলনকারীকে’ পেটাচ্ছে ছাত্রলীগ। হইতেও পারে। এইরকম অনেক কাজই ছাত্রলীগ করতেছে। কিন্তু, সবাইরে তো পেটায় নাই। ওই ছেলেরে কেন পেটাচ্ছে? অন্য অনেক পত্রিকায় একই ছবির ক্যাপশন দেইখা বুঝলাম ঘটনা। তারে ‘শিবির সন্দেহে’ পেটানো হচ্ছে। আমার কথা হইল, দুই পক্ষের সংঘর্ষ চলতেছে, তার একপক্ষের পরিচয় আপনি উন্মচন করবেন, আর এক পক্ষরে লুকাইয়া রাখবে, এইটা কেমন সাংবাদিকতা? দুইটাই বলতেন, পাঠক সত্য-মিথ্যা যাচাই কইরা সিদ্ধান্ত নিতো; তাতে আপনাগো সমস্যা কোথায়, প্রথম আলু??

July 15, 2013

যত বড় রাজাকারই হোক, ব্যারিস্টার রাজ্জাক আইসা বলবে— আমার মক্কেল অমুক সাহেবের কোন দোষ নাই, কিছুই প্রমাণিত হয় নাই, তিনি ফুলের মত পবিত্র, তার একদিনরও সাজা হওয়া উচিত না। আমার মনে হয় জামায়াতে ইসলামীর উকেল আমীর হিসেবে এই ভণ্ডটারেও বোনাস বা এক্সট্রা খাতির বাবদ একটা ফাঁসি/যাবজ্জীবন দেয়া হোক।

July 18, 2013

বাংলাদেশের জনগণ কখনো মুজাহিদকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়নি, সে প্রতিবার নির্বাচনে ফেল মেরেছে। কিন্তু অবাক লাগে, বিএনপি সেই জারজ-টারে টেকনোক্রাট কোটায় মন্ত্রী বানিয়ে জাতীয় পতাকার চরম অপমান করছে। কি মধু ছিলো মুজাহিদে? এর আগে জিয়া কুখ্যাত রাজাকার শাহ আজিজ কে প্রধানমন্ত্রী বানান। দেশে রাজাকারদের পুনর্বাসন সেই থেকে শুরু। আওয়ামী লীগও ১৯৯৬ সালে জামায়াতকে সাথে নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছিলো। কিন্তু নির্বাচনী জোট করে ক্ষমতায় তো আনেনি। আওয়ামী লীগের পাপ বড়জোর চুরি-ডাকাতির পাপ, যার জন্য জেল-জরিমানা হবে। কিন্তু বিএনপির পাপ তো খুন-ধর্ষণের পাপ, যার জন্য মৃ্ত্যুদণ্ডও হতে পারে।

July 19, 2013

আফসোস, তিঁনি বুঝেন না যে তাঁর মুখই তাঁর সবথেকে বড় শত্রু। লাখ লাখ তরুণকে দূরে ঠেলে দিয়ে ভুল করলেন। জানিনা, তাঁর চামচারা তাকে কী রিপোর্ট বা বুদ্ধি দেয়……নাকি ভয়ে আসল রিপোর্ট দিতেই পারেনা। তারুণ্যের পালস ধরতে পারলেন না……

August 05, 2013

আজ বাংলাভিশনের ইফতার-পূর্ব ক্ষুদে আলেমদের প্রতিযোগীমূলক অনুষ্ঠানের আখেরী পর্বে কেন ধেড়ে জালেম লেজেহুমু এরশাদকে প্রধান অতিথি করে আনলো সেটা বুঝলাম না…August 18, 2013একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম : যেন ঐশী মেয়ে হওয়াতে তিরষ্কারটা একটু বেশি পাচ্ছে। তিরষ্কৃত হওয়ার মত কাজ সে অবশ্যই করেছে। কিন্তু আনেকের কথায় একটা সুর ধরা পড়ছে যে, মেয়ে হয়ে এত বড় অপরাধ করে কি করে? মেয়েদের বাইরে ঘোরাফেরা বেশি করতে দিলে এমন তো হবেই, মেয়ে আর ছেলের মধ্যে বন্ধুত্বের ফল এই, ইত্যাদি। যেন ছেলে হয়ে এমন অপরাধ করলে তার একটাই দোষ হোত, হত্যার দোষ; কিন্তু ঐশীর দোষ দুটো, তার একটি সে মেয়ে। অনেকে এখানে শফি হুজুরের তেতুল তত্ত্বের উপযোগীতার প্রমাণও আবিষ্কার করছেন। যেন কোন ছেলে কখনো মাদকাসক্ত হয়ে আপনজনকে হত্যা করেনি! অনেকে আবার ঢালাও ভাবে সব দোষ শুধুমাত্র ইংরেজী মাধ্যম শিক্ষার ঘাড়েও চাপাতে চাচ্ছেন। ভাবখানা বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসার কোন ছেলেমেয়ে কখনো বিপথে যায় না! ঐশীর উদাহরণ দিয়ে নারী স্বাধীনতায় বাধা দিতে যাওয়া বা ইংরেজী মাধ্যমকে ঢালাও দোষারোপ করা আর মাথা ব্যথার জন্য মাথা কাটা একই কথা। যেটা দরকার সেটা মাদকব্যবসার সমূল উৎপাটন ও আইন-শৃংখলার সুষ্ঠু প্রয়োগ। আর সুস্থ রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক ও শিক্ষার পরিবেশ।

Oct. 02, 2013

মহামান্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কম্পিউটার হ্যাক করে রায়ের আংশবিশেষ ফাঁস করে যারা চলমান ন্যায়বিচারের ধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার হীন চক্রান্তে লিপ্ত, সেই সব দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক। একটা ক্লু তো আমাদের সবার কাছেই আছে– বেহায়া সাকা’র ছোটছেলে বেয়াদপ হুক্কাহুয়া চৌধুরী’রে দিয়েই তদন্ত শুরু করা যায়।

Nov. 05, 2013

বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, মফস্বল, এমন কি ক্ষেত্র বিশেষে, শহর নিয়ে শঙ্কিত। মিথ্যা, গুজব, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, উস্কানি, অন্য ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত দেয়া, মূঢ়তা, সহিংসতা ইত্যাদি সামাজিক কর্কট রোগের কৃত্রিম ভাইরাসের যারা উৎপাদক ও বাজারজাতকারী, তারা বেশ নিশ্চিন্তে ও নির্বিঘ্নে তাদের কারখানা স্থাপন করে রোগ-বালাই বণ্টনের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

Nov. 04, 2013

অন্য ধর্মাবলম্বী বাঙালি/পাহাড়ি ভাই-বোনদের উপর ধারাবাহিক হামলার কঠোর নিন্দা জানাই। দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হোক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।

Nov. 26, 2013

অবশেষে, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন না করে ইতিহাসের কাছ থেকে একটা ‘দায়মুক্তি’ বোধহয় পেতে চায় সিপিবি। ‘৭৫ এ তাদের বাকশালে যোগ দেয়ার ‘পাপ’ বোধহয় মোচন করতে চায় এই বর্জনের মাধ্যমে। এখন সময়ই এ্কমাত্র বলতে পারে তাদের এই সিদ্ধান্ত সঠিক নাকি বরাবরের মতই আরও একটি বাম-হঠকারিতা।

Dec. 25, 2013

জাতীয় পতাকা কি নিজেগো মাথায় বান্দবে না বাঁশের মাথায় বান্দবে ? — that is the question……

Dec. 28, 2013

বিএনপি-জামায়াত একে অপরকে ছাড়বে না, কখনো ছাড়তে পারে না তাদের বর্তমান সাংঠনিক অবস্থায়; কেননা বর্তমানে বিএনপি আর জামায়াত এই দুই দলকে মেলালে আমরা একটা গোটা দল পাই। শিবিরের ক্যাডার বাহিনী, জামায়াতের কর্মী বাহিনী, জামায়াতের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থ, বিএনপির নেতৃত্ব, বিএনপি-পন্থী বুদ্ধি্জীবীদের সমর্থন আর আওয়ামী-বিরোধী মানুষের বিএনপি-মুখী ভোট-ব্যাংক — এই সব মেলালে একটা পূর্ণাঙ্গ দল পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ একাই বর্তমানে এই সব দিকগুলো নিজের দলের মধ্যে সন্নিবেশিত করতে পেরেছে বলেই আপাতত তারা এগিয়ে রয়েছে, এটা বিএনপি-জামায়াতও জানে। তাই বিএনপি-জামায়াত হরিহর আত্মা মানিকজোড় বর্তমানে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক।

Dec. 29, 2013

২০০৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল:

“লংমার্চ: ঢাকাতেই গ্রেফতার ৮ হাজার, হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ।“ Really, history repeats itself!

January 01, 2014

১/১১ এর সেনা-সমর্থিত সরকারের সব থেকে বিতর্কিত ও ধিকৃত উপদেষ্টা বোধহয় ছিলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন (হীরু)। তিনি এতটাই কট্টরপন্থী ছিলেন যে একটি আধা-সামরিক সরকারও তাকে এক বছরের মাথায় উপদেষ্টা-পরিষদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ২০-২২ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় আর ঠিক তার পরের দিনগুলোতে তার ঘৃণ্য ভূমিকার কথা এদেশের ছাত্রসমাজ কোন দিনও ভুলবে না। আজ আমাদের দুর্ভাগ্য যে সেই লোক ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে উঠে এসে আমাদেরকে গণতন্ত্রের ছবক দিচ্ছেন; অতীতের অনেকের মতই।

January 01, 2014

বেগমসাহেবা, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন……

January 05, 2014

সেই সময়: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। খণ্ডকালীন চাকুরি হিসেবে তখন একটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাথে যুক্ত থাকার সুযোগ হয়েছিলো। ভোটের কয়েকদিন আগের থেকেই মাঠে-পর্যায়ে ছিলাম। ভোটের সারাটা-দিন ঘুরে বেড়িয়েছিলাম খুলনা আর বাগেরহাটের বিভিন্ন নির্বাচন কেন্দ্রে। দেখেছিলাম কি বিপুল উৎসাহ আর উদ্দীপনার সাথে মানুষ ভোট দিয়েছিলো। মনে আছে, রাতে ছিলাম খুলনার দৌলতপুর শিল্প এলাকার এক রেস্ট হাউসে। যখন সন্ধ্যা থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হতে লাগলো টিভি-তে, চারিদিকে সে কি আনন্দ! সে কি কলরব! সেই নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি আর আজকের অবস্থা চিন্তা করলে শুধুই দীর্ঘশ্বাস আসে। আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এ কী নিদারুণ ব্যর্থতা!!

January 06, 2014

আমরা যেই তিমিরে ছিলাম সেই তিমিরেই রয়ে গেছি আজো। গতকাল রাতে মাছরাঙ্গা টিভিতে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ একটা মজার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন। তিনি জিয়াউর রহমানের আমলের ১৯৭৯ এর নির্বাচনের সময় প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার উপর নির্দেশ ছিল ভোটার আসুক আর না আসুক ভোট যেন পড়তে থাকে। তিনি রাজি হলেন না। বেলা ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়লো মাত্র ৬ টি। ১২টার পর সব বড় বড় সরকারি কর্মকর্তা আর পুলিশের লোক এসে বললো, আপনার সামনে আর কোন উপায় নাই, জাল ভোট দিতেই হবে। তিনি বললেন, আমি কিছু করতে পারবো না, আপনারা করতে চাইলে করেন। তখন তারা নিজেরাই জাল ভোট দিতে লাগলো। তোফায়েল সাহেব বেলা ৩টা পর্যন্ত এই সব কীর্তি-কলাপ দেখে বাড়ি চলে গেলেন। ১৯৭৯ এর সেই নির্বাচন আর গতকালকের নির্বাচনের মধ্যে আসলেই কোন পার্থক্য রইলো না। যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ।

January 16, 2014

বৃহত্তর জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে এখন বলা চলে যে তারা ১৯৭১ ও ২০১৩ এর পরাজিত শক্তি।

January 18, 2014

দ্বিজাতি-তত্ত্ব একটি চিরস্থায়ী অভিশাপের নাম…..

Feb. 17, 2014

বন্ধ হোক সকল বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম-খুন। বিএনপি-জামায়াত যে ত্রাসের রাজত্ব চালু করেছিলো তা আর জারিরা খবেন না এটাই আশা করি। র‌্যাবের লাগাম টেনে ধরুন এখনই, তাদের বাড়াবাড়ি আর বরদাস্ত করবেন না।ত্রাসের নয় বরং উন্নয়নের রাজত্ব কায়েম করুন।সময় থাকতে পিউর হন, সাপোর্ট দেবে জনগণ……

March 01, 2014

আফগান মুজাহিদীনদের সাথে সোভিয়ে-মার্কিনরা তাই পারে না, আমরা তো কোন ছার !! আর যে দেশে জামাত নির্বাচনে জেতে সেই দেশ আফগানিস্তান-কানাডার কাছে হারলে আমি একটুও আবাক হই না — it tells a lot about the people for me……..

এপ্রিল ১৯, ২০১৪ (April 19, 2014)

বিজেপি’র কোন নেতা নাকি বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ভূমি দাবি করেছে । পরের দেশের ভূমির কথা যখন উঠলই তখন আমিই বা আর এই সুযোগ ছাড়বো কেন? আমিও ভারতের অন্তর্গত বাঙালি-অধ্যূষিত পশ্চিমবঙ্গ আর ত্রিপুরা-আসাম-বিহার-উড়িষ্যার অন্যান্য বাংলাভাষী অংশগুলো অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে ছেড়ে দেয়ার জোর দাবি জানাই । আমরা সেখানে হিন্দু-মুসলমান-বোদ্ধ-খ্রস্টান মিলে একটি সত্যিকারের স্যেকুলার বৃহত্তর বাংলারাষ্ট্র গড়ে তুলবো, ভারতের মত মেকি-স্যেকুলার না । জয় বাংলা, জয় স্বাধীন যুক্তবঙ্গ, দেহেলভি রাজ (দিল্লী’র শাসন) নিপাত যাক ।

এপ্রিল ১৯, ২০১৫ (April 19, 2014)

স্বল্পোন্নত বা অনুন্নত আমরা কেবল অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ভাবেই না; সামাজিক, দার্শনিক, মানসিক ও মানবিক দিক থেকেও ।

এপ্রিল ২১, ২০১৫ (April 21, 2014)

এই বছরের বর্ষবরণের মূল প্রতিপাদ্য যারা ঠিক করেছিলেন তাদের নির্ঘাত দিব্যদৃষ্টি আছে। এইবারের ‘থিম’ ছিলো: “অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে”। তাদের ভবিষ্যতবাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। পহেলা বৈশাখের দিন হতে আজ পর্যন্ত যেই পরিমাণে চারিদিকে দেখছি-শুনছি পুরুষতান্ত্রিক শোভিনিস্টদের আদিম আস্ফালন; সরকারী দলকানাদের কতিপয় দলীয় কুলাঙ্গার, যারা দলের জন্য ক্যান্সার-সরূপ, তাদেরকে বাঁচাতে গোয়েবলসীয় অপপ্রচার; নারীবিদ্বেষী গোঁড়া ধার্মিক, জামাতী এবং সামাজিক রক্ষণশীলদের (যার মধ্যে পাঁড় আওয়ামী লীগারও আছে) ‘হত্যার দায় নিহতে উপর চাপানোর’ মত অনবরত পর্দা-পালনের নছিহত আর তথাকতিথ ‘বাড়াবাড়ি ও বেদাত সমালোচনার’ ছলে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষোৎগার; নিজেদের অবহেলা আর ব্যর্থতার রাক্ষুসে মাছ ধূম্রজালের শাক দিয়ে ঢাকতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনর্গল মিথ্যাচার; নগদ মুনাফা তুলতে বিরোধীদলীয়দের নির্লজ্জ সুবিধাবাদীতা আর দ্বিচারীতা (শামসুন্নাহার হলের ঘটনা, ইয়াসমীন-ধর্ষণ বা মডেল তিন্নি-হত্যার কথা আমরা ভুলি’নি) ইত্যাদি ইত্যাদি; তাতে বলতেই হয়– আমরা শুধু পোশাকে আর বেশ-ভূষাতেই কোনো তেলেসমাতি কায়দায় আধুনিক যুগে এসে পড়েছি, মন আমাদের আজও ফেঁসে রয়েছে মধ্যযুগের আন্ধকারেই। এই তরিকায় কি রক্ষা পাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? আওয়ামী লীগ কি ‘এডজাস্ট’ করতে করতে মধ্য-বাম থেকে মধ্য-ডানে গিয়ে ঠেকবে? আবহমান কাল ধরে যে শাড়ি বাঙ্গালী নারীর ভূষণ, যে বৈশাখী মেলা গ্রামবাংলার প্রাণের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উৎসব, তা-ই এই ২০১৫ সালে হয়ে গেল অশ্লীল পোশাক-হিন্দুয়ানী অপসংস্কৃতি? শুধু ভূতেরই উল্টো পা নেই, বাঙ্গালী মুসলমান ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রেরও এখন উল্টো পা গজিয়েছে দেখছি!!

June 23, 2015

যে দেশের কিছু মানুষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে গিয়ে নিজের দেশের মা-বোনদের লাঞ্ছিত করতে পারে, তারা ভিনদেশী ও অন্য ধর্মের মানুষকেও একই ভাবে লাঞ্ছিত করবে এটাই স্বাভাবিক। হয়ত সুধীরের গায়ে হাত ওঠে নাই, কিন্তু ঘিরে ধরে গালাগালি করাও কি লাঞ্ছনা নয়?

July 05, 2016

ব্লগার মারলে লীলাখেলা আর গুলশানে মারলেই দোষ?!

Date Unknown, 2015

বিএনপি’র রাজনীতির এ কী করুণ পরাজয়! তাদের মেকি ভারত-বিরোধীতার মুখোশ খুলে পড়তে শুরু করেছিল অনেকদিন ধরেই, এখন আর তার কিয়দাংশও বাকি নেই। এতদিন তারা বলে এসেছে আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের দালালি করে। এইবেলা তারা তাদের সেই অবস্থান সংশোধন করতে শুরু করেছে; তাদের নতুন দাবি : “আওয়ামী লীগ শুধু কংগ্রেসের দালালি করে, কংগ্রেসকে সব দিয়ে দেয়; কিন্তু মোদি সাহেবকে ধন্যবাদ…. ইত্যাদি।” অর্থ্যাৎ, কংগ্রেস পঁচা, তাদের সাথে আঁড়ি, কারণ তার সাথে আ. লীগের ভালো সম্পর্ক। বিজেপি ভালো, পাঁড় ব্রাহ্মণ্যবাদী মোদি’র সাথে বন্ধুত্ব করা যায়, কারণ তার সাথে আ. লীগের অত দহরম-মহরম নেই (যদিও তিনি মূলন সেই পুরাতন মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিই বাস্তবায়ন করলেন মাত্র)। তাদের কথার অন্তর্নিহিত মর্ম খুঁজলে মনে হবে, তারা আসলে বলতে চাইছে : “বাংলাদেশে তো কংগ্রেসের দালাল আ. লীগ আছেই (?), কিন্তু বিজেপি’র দালালের পদটা তো এখনো খালি আছে, ওইটা দয়া করে বিএনপি-কে দিলেই তারা বর্তে যায়।” ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, যাদের বিরুদ্ধে সারা জীবন রাজনীতি করার ভাণ করলেন, এখন তাদেরই সবথেকে প্রতিক্রিয়াশীল, গোঁড়া-হিন্দু-দক্ষিণপন্থি অংশের কাছে আপনাদেরকে ধর্না দিতে হয়। এখন বোধহয় আপনারা আর মসজিদে “উলু-ধ্বনি” শুনতে পান না? এখন ভারতের কাছে আর দেশ-বিক্রি হয় না? অবশ্য অদৃষ্ট এই প্রথম বিএনপি’র সাথে রসিকতা করছে এমন নয়; ১৯৭৫-এ যে সেনাবাহিনীর হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিলো সেই তাদেরই হাতে অর্ধচন্দ্র খেয়ে ২০০৭ সালে গদি থেকে নামার মাধ্যমে বিপর্যয়ের শুরু হয় দলটির।

September 02, 2016

ডঃ সলিমুল্লাহ খান এর প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি অসাধারণ। তিনি অনেক আগেই বুঝেছিলেন যে কামাল আতাতুর্ক ও তুরস্কের সামাজিক বিকাশ অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তাই আজ থেকে ৩ বছর আগেই আতাতুর্ক-এর জীবন ও দর্শনের উপর সেমিনার সিরিজের আয়োজন করেছিলেন। আজ তুরস্কের দিকে তাকলে সেই সেমিনার সিরিজের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পাই।

September 02, 2016

সিলেটের ইসকন মন্দিরে হামলা : ওরে বাবা, একেই বলে বাঙালী মুসলমান!! দুর্বলের উপরে অত্যাচারে আমরা পিছপা হই না, হেহেহে।

July 22, 2016

বাংলাদেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় হয়। এর পিছনে নিশ্চয় ইহুদি-নাছারা-হিন্দুদের চক্রান্ত রয়েছে। ৯০% মুসলমানের দেশকে ধবংস করার ষড়যন্ত্র করছে কাফের-রা।

Sept. 07, 2016

Report: নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশকে এনে দিয়েছে গৌরব। কলসিন্দুরের সেই মেয়েদের কিনা বাড়ি ফিরতে হলো লোকাল বাসে!

Comment: বাঙলী মুসলমান, তার উপরে আবার পুরুষ। এমনিতেই নাচুনি বুড়ি, তার উপরে ঢাকের বাড়ি !

Date and year unknown

বাঙালি জাতি হিসেবে কোন অবস্থাতেই The Lord of the Rings এর Orc-দের থেকে উন্নত নয়।

Date unknown, 2011

বিরোধ ছাড়া বাঙালি থাকতে পারেনা: দেশ ভাগ করে হিন্দু-মুসলমান বিরোধ মিটলো, এলো বাঙালি- অবাঙালি বিরোধ। দেশ স্বাধীন করে তাও মেটালাম; এখন হয়েছে বাম, মধ্য-বাম, অসাম্প্রদায়িক মধ্যমপন্থী আর গোঁড়া ডানপন্থী বা, আরো মোটা দাগে, আওয়ামী লীগ- বিএনপি বিরোধ। শুধু দেশেই নয়, যেখানেই যাই আমরা দুটো দল করে নিই এবং বিরোধ বাধাই। আসলেই, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে!

Sept. 10, 2011

বাঙালী মনে করে সভ্যতা পোশাকি আচারে। আসলে তা আছে আচরনের ন্যায়পরায়নতায়।